আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থ নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে তুরস্ক। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ ওমার ওজকিজিলচিকের মন্তব্যভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈরুতে তুর্কি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্প্রতি হিজবুল্লাহর বৈঠক হয়েছে। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ জানানো হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেমের বক্তব্যকেও আঙ্কারা স্বাগত জানিয়েছে। তুরস্ক চায়, হিজবুল্লাহ যেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের বিরুদ্ধে বৈরী ভূমিকায় না যায়।
ওজকিজিলচিক বলেন, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদের পক্ষে লড়াইয়ের কারণে হিজবুল্লাহকে নিয়ে তুরস্কের সংশয় রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর সিরিয়া থেকে হিজবুল্লাহ বিতাড়িত হওয়ায় বিরোধের একটি বড় কারণ দূর হয়েছে। তুরস্ক লেবাননে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ভূমিকা ও সামরিক উপস্থিতি সমর্থন করে না; বরং লেবানন ও সিরিয়ার রাষ্ট্রকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে চায়।
তুরস্ক হিজবুল্লাহর কাছে ইরানি অর্থ বা অস্ত্র স্থানান্তরে সহায়তা করছে—এমন প্রতিবেদন নিশ্চিত করা যায়নি। ওজকিজিলচিকের মতে, এ ধরনের সম্পৃক্ততা থাকলেও তা রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি তুরস্ক-ইসরাইলের সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন, যদিও ইসরাইলি পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেন। তুরস্ক হিজবুল্লাহকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে না করলেও লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যোগাযোগ বজায় রাখাকে কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয় ভাবছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।