বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ক্রমে সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে, ফলে উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে অর্থায়ন কমছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগের ৯১ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল সরকারি সিকিউরিটিজে, অন্য খাতে ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নতুন ঋণ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
মার্চ প্রান্তিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ ১০ শতাংশ বাড়লেও অন্য খাতে তা শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ ও বিনিয়োগে আগ্রহী নন। বাংলাদেশ স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলমের মতে, ব্যাংকগুলো নতুন ঋণের বদলে বিদ্যমান ঋণ আদায়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
২০২৫ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংক বিনিয়োগ ছিল মোট বিনিয়োগের ৬৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একই বছরে ব্যাংকগুলো নিট সুদ আয়ে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার লোকসান করলেও ট্রেজারি ও বিনিয়োগ থেকে সুদবহির্ভূত আয় ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকায় পৌঁছায়। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।