বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বা ব্রি ৫৭তম বর্ষে পদার্পণ করে জানিয়েছে, গত সাড়ে পাঁচ দশকে দেশে চাল উৎপাদন চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন প্রায় ৪০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। জনসংখ্যা প্রায় তিন গুণ বাড়া এবং আবাদি জমি কমার মধ্যেও উন্নত জাত ও প্রযুক্তি এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
ব্রি এ পর্যন্ত ১১৭টি ইনব্রিড ও ১০টি হাইব্রিডসহ ১২৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর ২৩টি জাত ১৪টি দেশে চাষ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ব্রির জাত চাষে কৃষকের ফলন ৪০ শতাংশ এবং আয় ৮৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক জাতগুলোর মধ্যে রোগ প্রতিরোধী, পুষ্টিসমৃদ্ধ, উচ্চফলনশীল, লবণসহিষ্ণু ও ঠান্ডাসহিষ্ণু ধান রয়েছে, যা ভিন্ন ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতির জন্য তৈরি।
ব্রি আধুনিক প্রজনন, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ ও ডিজিটাল সেবাও বাড়াচ্ছে; মাঠের পোকামাকড় ও রোগ পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৩০টি জাতের নিউক্লিয়াস বীজ সংরক্ষণ এবং ২৩২ টন ব্রিডার বীজ উৎপাদন করেছে। জলবায়ু-সহিষ্ণুতা, জিনোমিক প্রজনন, পুষ্টিসমৃদ্ধ জাত ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারে রয়েছে, যদিও জনবল ও গবেষণা বরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।