ইয়েমেনে এক ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট দেখা দিচ্ছে, যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি—প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ—২০২৬ সালের শুরুর দিকে আরও তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, প্রায় সব জরিপকৃত পরিবার খাদ্যকে তাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ৮০ শতাংশ পরিবার তীব্র ক্ষুধার কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ আইপিসি মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে আরও ১০ লাখ মানুষ জীবন-হুমকিপূর্ণ ক্ষুধায় পড়তে পারে এবং আগামী দুই মাসে চারটি জেলায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হতে পারে।
বহু বছরের সংঘাত, অর্থনৈতিক পতন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইয়েমেনের খাদ্য উৎপাদন ও আমদানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশটি প্রায় ৯০ শতাংশ শস্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে কৃষকরা বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন আরও কমে গেছে, ফলে অনেক পরিবার দিনে একবেলা খাবারেই সীমাবদ্ধ।
মানবিক সহায়তা তহবিল গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ২৫ শতাংশ পাওয়া গেছে এবং পুষ্টি সহায়তা মাত্র ১০ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে। আইআরসি জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ, শিশু ও মায়েদের চিকিৎসা অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।