ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নীতি—যা বহিরাগত চাপ বা সামরিক জোটের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রতীক—বর্তমানে কঠিন চাপে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল হিসেবে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু দ্রুত মেরূকরণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে এই ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাড়মূল্যে জ্বালানি আমদানি ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও শুল্কচাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও চীনের ওপর ভারতের বাণিজ্যিক নির্ভরতা রয়ে গেছে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সরবরাহ সীমাবদ্ধতা ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লেও প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত।
কূটনৈতিকভাবে, বৈশ্বিক সংঘাতে ভারতের সতর্ক অবস্থান তাকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করেছে। মিত্রদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত ছাড় না পাওয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এখন আর কার্যকর হাতিয়ার নয়। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ ও অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য না আনলে এই নীতি ভারতের জন্য দায়ে পরিণত হতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।