ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১১৩টি উন্নয়নশীল দেশ শিক্ষা খাতের তুলনায় বিদেশি ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। সংস্থাটি জানায়, সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো গড়ে ৩ দশমিক ৬ গুণ বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের তুলনায় শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ২১ শতাংশ হারিয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা আরও ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ডেট জাস্টিস জানিয়েছে, কোভিড-১৯, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সুদের হার বৃদ্ধি ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে ৫৬টি দেশ তাদের মোট সরকারি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে। ইউনেস্কো জানায়, অর্থের ঘাটতির কারণে অনেক দেশে বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না।
সংস্থাটি বর্তমান ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ-সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি শিক্ষা ও জনসেবায় বিনিয়োগ বজায় রাখতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।