তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবারও নাগরিকদের বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জন্মনিয়ন্ত্রণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং জন্মহার কমে যাওয়াকে ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এরদোয়ান ঐতিহ্যবাহী পরিবারব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অন্তত তিনটি, বরং চার বা পাঁচটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তার মতে, অধিক জন্মহার তুরস্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু ২০২৪ সালে দেশের প্রজনন হার নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৪৮-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নারীদের উচ্চশিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট এই পতনের মূল কারণ। সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, নগদ প্রণোদনা ও সুদমুক্ত ঋণসহ নানা উদ্যোগ নিলেও অভিভাবকেরা মনে করছেন এগুলো ব্যয়বহুল জীবনের তুলনায় অপ্রতুল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কম মজুরির কারণে অনেক পরিবার সন্তান লালন-পালনে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এরদোয়ানের এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি রক্ষণশীল ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তরুণ প্রজন্ম এখন শিক্ষা ও ক্যারিয়ারে বেশি মনোযোগী হওয়ায় জন্মহার বাড়ানো কঠিন হবে বলে তারা মনে করেন। সরকার ২০২৫ সালকে ‘পরিবার বর্ষ’ ঘোষণা করেছে এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে ‘পরিবার ও জনসংখ্যা দশক’।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।