ঢাকার পুরান জেলখানার নাজিমুদ্দিন রোডে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রত্নখননে রঙিন মৃৎপাত্রসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এবং প্রমাণ করে যে, মোগল যুগের অনেক আগেই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সিল্ক রুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতে বোঝা যায়, ঢাকার ইতিহাস মোগল আমলের চেয়ে অনেক পুরোনো।
ইতিহাস ও শিলালিপি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুলতানি আমলে ঢাকা ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার নামকরণ হয় ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের নামে। পঞ্চদশ শতকের দুটি শিলালিপি—নারিন্দার বিবি বখত বিনোত মসজিদ ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের নাসওয়ালাগলি মসজিদ—ঢাকায় মুসলিম সমাজের বিকাশের প্রমাণ দেয়। প্রথম মসজিদটি ব্যবসায়ী আরকান আলীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হয়, আর দ্বিতীয়টি সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠে।
এই শিলালিপি ও মসজিদগুলো প্রমাণ করে যে, সুলতানি যুগে ঢাকায় মুসলিম সমাজ ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছিল এবং বুড়িগঙ্গা নদীতীরবর্তী এই অঞ্চল বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।