বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় বাজারে রপ্তানি কমার মুখে পড়েছে, যার প্রভাবে চট্টগ্রামে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনা বাড়ছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে বাংলাদেশ ৮৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে রপ্তানি ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে নেমেছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিভিন্ন কারণে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে; এর মধ্যে ২৫টি স্থায়ী এবং ২৫টি সাময়িকভাবে বন্ধ। এতে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশ পোশাক খাতের কর্মী। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা বন্ধের পর অনেকে পাওনা অর্থও পাননি।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা কার্যাদেশ কমা, জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গ্যাসনির্ভর টেক্সটাইল কারখানাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে তারা জানান। অর্থনীতিবিদরা উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ ও বিনিয়োগ সুরক্ষার পদক্ষেপ চেয়েছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।