ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে ভারতের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে, যদিও দেশটি কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহন হয় এবং ভারত প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথেই আমদানি করে। এই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সার ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা ভারতের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
ভারতের অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ আমদানি করা হয় এবং বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, বিশেষ করে ওমান ও সৌদি আরব থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালানও ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দেশে সার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সরকারি ভর্তুকি বেড়েছে, আর ভর্তুকি কমলে কৃষকরা কম সার ব্যবহার করছেন, যার ফলে ফসল উৎপাদন কমে খাদ্যের দাম বাড়ছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।