বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা আবার সরকারের হাতে ফিরছে। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল বা এখনই অনুমোদন না করার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত তিনটি অধ্যাদেশ রয়েছে। ২০২৫ সালের সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, যা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের বিধান দিয়েছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির মতে, এটি বহাল থাকলে বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় ব্যাহত হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী সদস্যরা ২০টি অধ্যাদেশে ভিন্নমত নোট দিয়েছেন, তাদের মতে এসব সংস্কার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছিল।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়বে। আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।