লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে ভারতীয় বিধিনিষেধের প্রভাবে বাণিজ্য মন্দা দেখা দিয়েছে, যার ফলে রপ্তানি, শুল্ক রাজস্ব এবং বন্দরকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতমুখী রপ্তানি ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৫ টন; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ৩৬ হাজার টনে দাঁড়ায়। রাজস্ব আদায়ও লক্ষ্যমাত্রার নিচে ছিল; ২০২৪-২৫ সালে ১৪৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বিপরীতে ৮৭ কোটি আট লাখ এবং ২০২৫-২৬ সালে ১২৪ কোটি ১১ লাখ টাকার বিপরীতে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
আমদানি অবশ্য বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৪ লাখ ৪৩ হাজার টন থেকে ২০২৫-২৬ সালে তা ২৬ লাখ ৮১ হাজার টনে পৌঁছায়। তবে বন্দরটি পাথরনির্ভর রয়ে গেছে; সর্বশেষ অর্থবছরে মোট আমদানির ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা ২৪ লাখ ৩৭ হাজার টন ছিল পাথর। ব্যবসায়ীরা চ্যাংড়াবান্ধায় পাথরের দাম বৃদ্ধি, শুল্ক, প্রয়োজনমতো এলসি না পাওয়া, ঋণের সুদ বৃদ্ধি এবং সড়কের দুরবস্থার কথা বলেছেন।
রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মতে, নির্দিষ্ট বাংলাদেশি পণ্যে ভারতের স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা পথকে প্রভাবিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা পণ্যের বৈচিত্র্য, খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা, দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সমন্বয় এবং বন্দর ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। এক শ্রমিক বলেন, কাজ কমে যাওয়ায় দৈনিক আয় ৮০০-৯০০ টাকা থেকে ৪০০-৫০০ টাকায় নেমেছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।