বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বছরভিত্তিক শিখনফল পরিমাপ পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে। পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বদলে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কমিটি। সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব প্রস্তাব ওঠে। শিক্ষা খাতের ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার কথাও বলা হয়েছে।
কমিটি মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, শর্তপূরণকারী প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘদিন বিনাবেতনে সেবা দেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তি এবং সংসদ সদস্যদের বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সুপারিশ করেছে। সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বদলালেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো স্থিতিশীল রাখতে মালয়েশিয়ার আদলে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালে প্রায় ৪০ হাজার গোল্ডেন জিপিএধারী শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ, ৭০ লাখ ছাত্রীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বৃত্তি এবং প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মানে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন চালুর সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।