বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে দেড় লাখ মেশিন কেনার কথা ছিল। কিন্তু মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে মেশিন কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। অধিকাংশ মেশিন এখন অচল, মাত্র কয়েক হাজার ব্যবহারযোগ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে প্রতি তিনটি মেশিনের একটি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে, যা নিম্নমানের সরঞ্জাম উচ্চমূল্যে কেনার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রকল্পটির ব্যর্থতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ইভিএম প্রকল্পে অডিটে ধরা পড়ল বড় দুর্নীতি
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।