মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে—পুলিশ মহাপরিদর্শকের এমন বক্তব্যে তারা তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তার এ ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
আসক বলেছে, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার অধিকার নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই পুলিশের দায়িত্ব। সংগঠনটির মতে, আইন প্রয়োগের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার সম্ভাবনার কথা বলা দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগের উদাহরণ হতে পারে না।
সংগঠনটি সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে, যেখানে আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আসক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলগুলোর কথাও তুলে ধরে রাষ্ট্রের জীবন রক্ষা, হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বাধ্যবাধকতার কথা বলে। তাদের মতে, এ বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকারের ইতিবাচক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা জানাল আসক
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।