ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দক্ষিণ চীন সাগরের উন্মুক্ত পানিতে প্রায় ১০ মিটার গভীরে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যের দাবি করেছেন। গবেষণার ফল ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী জুলে প্রকাশিত হয়। ওয়েইঝো দ্বীপের কাছের সমুদ্রে পানির নিচের একটি রোবটের সঙ্গে পেরোভস্কাইট সৌরকোষ যুক্ত করে ব্যাটারি চার্জ করা হয় এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে এলইডি আলোও জ্বালানো হয়েছে।
গবেষকেরা লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইটের বিশেষ সৌরকোষ ব্যবহার করেছেন, যা পানির নিচে থাকা নীলচে-সবুজ আলোতে তুলনামূলক কার্যকর। প্রায় ১০ মিটার গভীরে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ শতাংশ আলো পৌঁছায় বলে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ সেখানে সীমিত কার্যকারিতা দেখায়। কৃত্রিম ১০ মিটার গভীরতার পরিবেশে ছোট সৌরকোষের দক্ষতা ছিল ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং বড় সৌরকোষের ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। পানি, চাপ ও ক্ষয় থেকে সুরক্ষায় বিউটাইল রাবার, কাচ ও স্বচ্ছ ইপোক্সি রেজিনের স্তর ব্যবহার করা হয়েছে।
দুই ঘণ্টা আলোতে ২ মিটার গভীরে ব্যাটারিতে ১ হাজার ৪১৬ মিলিওয়াট-ঘণ্টা, ৬ মিটারে ৭৫২ এবং ১০ মিটারে ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সঞ্চিত হয়। ১ হাজার ঘণ্টার পরীক্ষার পর সৌরকোষ প্রাথমিক সক্ষমতার ৯৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ ধরে রাখে। গবেষকদের হিসাবে, ১০ মিটার গভীরে এটি প্রায় ৫ বছর ৬ মাস কার্যকর থাকতে পারে এবং সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগব্যবস্থা ও রোবটে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত হতে পারে।
চীনা গবেষকদের ১০ মিটার পানির নিচে পেরোভস্কাইট সৌরবিদ্যুৎ পরীক্ষার সাফল্য
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।