দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ২৪ জুলাই প্রকাশিত তাওজিহি ফলাফলে মুসা পরিবারের তিন ভাইবোন সামা, আবদুল্লাহ ও নাদা উজ্জ্বল ফল করেছে। ফিলিস্তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় সামা পেয়েছে ৯৭.৫ শতাংশ, আবদুল্লাহ ৯৪.৬ শতাংশ এবং নাদা ৯৪.৪ শতাংশ। চলমান যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা পড়াশোনা চালিয়ে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আবদুল্লাহ ও নাদা ব্যক্তিগত কোচিংয়ে যেতে না পারায় পরিবার শিক্ষককে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষামন্ত্রী আমজাদ বারহাম জানান, এ বছর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা থেকে প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী তাওজিহি পরীক্ষায় অংশ নেয়; আরও ৪৬ দেশে অংশ নেয় ২ হাজার শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, গত তিন বছরে গাজা থেকে ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ পরীক্ষা দিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালে ছিল ৩৬,৯০০ জন। এ বছর পরীক্ষায় বসার কথা ছিল এমন ১,১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েলের হাতে নিহত হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতিসংঘ নভেম্বরে বলেছিল, দুই বছরের যুদ্ধে গাজার ৯৭ শতাংশের বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষা স্থাপনার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। দেইর এল-বালাহর শিক্ষক হানাআ আল-সাইয়েদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত একটি শিক্ষাকেন্দ্রে মাদুরে বসা শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের তালা আবু সুক্কার, যিনি যুদ্ধে পরিবারের বহু সদস্য হারিয়েছেন, ৮৬ শতাংশ পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও শোকের মধ্যেও তাওজিহি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।