আমিরুল মুমিনিন খাল ছিল মিসরের একটি ঐতিহাসিক জলপথ, যা খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনামলে আরব উপদ্বীপের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়। ১৮ হিজরি বা ৬৩৯-৬৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে হিজাজে খাদ্যসংকট দেখা দিলে মিসর থেকে উটের কাফেলায় খাদ্য পাঠানো হয়। কিন্তু স্থলপথে বিপুল খাদ্য পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য হওয়ায় নীলনদ ও লোহিত সাগরকে জলপথে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মিসরের গভর্নর আমর ইবনুল আস (রা.) নীলনদ থেকে লোহিত সাগর তীরের প্রাচীন বন্দর কুলযুম পর্যন্ত জলপথ পুনঃখননের ব্যবস্থা করেন। বর্তমান সুয়েজ অঞ্চলের কাছে অবস্থিত কুলযুম পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৭০ কিলোমিটার। ইতিহাসবিদ মাকরিজির বর্ণনায়, খননকাজে প্রায় ছয় মাস লেগেছিল। ফুসতাত থেকে নৌকায় গম ও যব কুলযুমে পৌঁছাত, সেখান থেকে জাহাজে হিজাজের বন্দরে রসদ পাঠানো হতো।
খালটি পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি মরুদস্যুদের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করেছিল। ওমরের সম্মানে এর নাম হয় খালিজে আমিরুল মুমিনিন। পরে পলি ও বালু জমা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনে নৌচলাচল ব্যাহত হয়। মাকরিজির বিবরণে ১৫০ হিজরি বা ৭৬৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে খালটি বন্ধের কথা আছে। পরে এর কিছু অংশ কায়রোর পানি সরবরাহ ও নগরভূগোলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক নগরায়ণে তা ভরাট হয়ে সড়কে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিক এই খাল নীলনদ থেকে লোহিত সাগর হয়ে হিজাজে খাদ্য পৌঁছাতে সহায়তা করত
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।