বাংলাদেশে চাল, মাছ, ভোজ্যতেল, দুধ, রাস্তার খাবার ও রেস্তোরাঁর সালাদে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও রোগজীবাণুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিরাপদ খাদ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে; দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে।
জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা গবেষণাগারের এক গবেষণায় পরীক্ষিত ২৩২টি চালের নমুনার ১৩১টিতে ক্রোমিয়াম, ১৩০টিতে ক্যাডমিয়াম ও সিসা এবং ৮৩টিতে আর্সেনিক পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিএফএসএর পরীক্ষার তথ্যে ২০২৩ অর্থবছরের সাড়ে আট শতাংশ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে দূষণের হার ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশে ওঠার কথা বলা হলেও, নমুনা ও সংগ্রহপদ্ধতির তথ্য ছাড়া এটিকে সামগ্রিক চিত্র বলা ঠিক নয়। গবেষণায় তেল, দুধ ও মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং রাস্তার খাবারে ই-কোলাই, সালমোনেলা ও ভিব্রিও পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
সীমিত জনবল, দুর্বল তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা না থাকাকে বড় বাধা বলা হয়েছে। আটটি মহানগরে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার চালু রয়েছে এবং তা ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বিশেষজ্ঞরা ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক পরীক্ষাগার, দক্ষ জনবল, উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য প্রত্যাহার এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশের তাগিদ দিয়েছেন।
দূষণ ও দুর্বল তদারকিতে বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।