বাংলাদেশে ক্যানসার রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতিতে হাজারো রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হন এবং বর্তমানে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ লাখ। বছরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্যানসারে মারা যান। সময়মতো রোগ নির্ণয় না হওয়া, ঢাকাকেন্দ্রিক সেবা ও উচ্চ ব্যয় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।
সরকারি ক্যানসারসেবাদাতা ৯টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ১২টি রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে, যার কয়েকটি অচল। দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি ক্যানসার হাসপাতালে ছয়টি রেডিওথেরাপি যন্ত্রের পাঁচটিই নষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে ১২টি পিইটি-সিটি কেন্দ্র আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, কর্মরত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট প্রায় ৩০০ জন এবং মেডিকেল অনকোলজিস্ট ৫০ জন।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় সাত থেকে ১২ লাখ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। আর্থিক সংকটে ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ করতে ব্যর্থ হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকার আট বিভাগে নির্মাণাধীন আটটি ক্যানসার হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জাতীয় ক্যানসার নিবন্ধন, প্রাথমিক স্ক্রিনিং এবং সেবা বিকেন্দ্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্যানসার চিকিৎসায় যন্ত্র, বিশেষজ্ঞ ও সাশ্রয়ী সেবার সংকটে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।