জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খাতে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই ট্রেন ডিজেল বা কয়লার বদলে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, যা বৈদ্যুতিক মোটর চালায়। প্রক্রিয়াটিতে মূলত পানি ও জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও কালো ধোঁয়ার নির্গমন প্রায় হয় না।
উচ্চচাপের ট্যাংকে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ তৈরি করে। অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে জমা থাকে এবং ব্রেকের সময় উৎপন্ন শক্তিও সংরক্ষণ করা হয়। জার্মানি ২০১৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেন চালায় এবং ২০২২ সালে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু করে। ভারত ১৭ জুলাই দেশীয়ভাবে নির্মিত প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন উদ্বোধন করেছে।
বিদ্যুতায়িত নয় এমন রেলপথে নতুন ওভারহেড লাইন ছাড়াই চলতে পারায় প্রযুক্তিটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ব্যয়, বিশেষ সংরক্ষণ ও সরবরাহ অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবলের প্রয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে ব্যয়বহুল বিদ্যুতায়ন-রুটে দীর্ঘ মেয়াদে এটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হতে পারে।
হাইড্রোজেন ট্রেন কম নির্গমন ও কম শব্দের বিকল্প রেলপ্রযুক্তি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।