ভারতের পার্লামেন্টে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি মর্যাদা দেওয়ার একটি নতুন বিল পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ গানটির ছয়টি স্তবককে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও সংবিধানের মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় আনবে। ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা গানে বাধা দিলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকবে।
বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। প্রতিবেদনে ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় উল্লেখ থাকা পরের স্তবকগুলো বাদ দিয়ে প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের পক্ষে মত ছিল। ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ‘বন্দে মাতরম’-কে সমান মর্যাদার কথা বললেও গণপরিষদ গানটির ছয়টি স্তবক গ্রহণ করেনি বলে উল্লেখ করা হয়।
১৯৮৬ সালের বিজো ইমানুয়েল মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নীরবে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানানোকে আইনসম্মত বলেছিল এবং গান না গাওয়াকে অসম্মান বলেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতগুলো ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিঘ্নকেই শাস্তিযোগ্য হিসেবে দেখেছে; নীরব থেকে অংশ না নেওয়াকে অপরাধ বলা হয়নি। তবে নতুন বিধানটি সেই পরিবেশ বদলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
ভারতে বন্দে মাতরমকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিল নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিতর্ক
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।