মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মুসলিম দেশগুলোকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ৯ আগস্ট প্রকাশিত টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ইতালীয় রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সার্জিও রেস্তেল্লি বলেন, পাকিস্তান এ চুক্তিকে ইউরোপীয় ন্যাটোর অনুরূপ বৃহত্তর ইসলামি সামরিক কাঠামোয় রূপ দিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন সদস্যের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে তিন দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটি বলা হয়েছে। রেস্তেল্লির ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মরক্ষামূলক এই চুক্তিতে কোনো প্রতিপক্ষের নাম নেই, তবে আসিফের বক্তব্য ইসরাইল ও ভারতকে সম্ভাব্য সাধারণ প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে। পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র ও বৃহৎ পেশাদার সামরিক বাহিনী, তুরস্ক যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সৌদি আরব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এসেছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, ইসরাইল প্রশ্নে তিন দেশের অবস্থান এক নয়। তুরস্ক ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, আর সৌদি আরবও সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় সামলায়। তাই চুক্তির প্রকাশ্য ইসরাইলবিরোধী ব্যাখ্যা রিয়াদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। সৌদি আরব ও তুরস্ক পাকিস্তানের বৃহত্তর লক্ষ্য সমর্থন করে কি না, সেটিই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে রেস্তেল্লি মনে করেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বৃহত্তর ইসলামি সামরিক জোটে রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত নিয়ে বিশ্লেষণ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।