বাংলার ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের নামে মক্কা ও মদিনায় দুটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যযুগে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে এ উদ্যোগকে তুলে ধরা হয়। ১৪১০ সালে তিনি প্রতিনিধি ইয়াকুত গিয়াসিকে বিপুল অর্থসহ মক্কায় পাঠান, যাতে মসজিদুল হারামের বাবে উম্মে হানির পাশে জমি কিনে আল মাদরাসাতুল গিয়াসিয়া আল বাঙ্গালিয়া প্রতিষ্ঠা করা যায়।
মক্কার মাদরাসার জন্য দুটি বাড়ি এবং দুটি বাগান কেনা হয়; বাগানগুলো ওয়াক্ফ করে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখানে হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি—চার মাজহাব অনুসারে পৃথক শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান হতো এবং ছাত্রসংখ্যা ছিল ৬০ জন। ওয়াক্ফের আয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আবাসিক ও কর্মচারী, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি সরবরাহে ব্যয় করা হতো।
মদিনায় মসজিদে নববির কাছে বাবুস সালামের নিকট হুসনুল আতীক নামের স্থানে আরেকটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন সুলতান। দুটি প্রতিষ্ঠানই গিয়াসিয়া বা বাঙালি মাদরাসা নামে পরিচিতি পায়। সূত্র অনুযায়ী, শরিফ হাসান ইবনে আজলানের আর্থিক অনিয়ম, সুলতানের মৃত্যুর পর অর্থপ্রবাহ বন্ধ, স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং হারামাইন সম্প্রসারণের কারণে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মক্কা ও মদিনায় বাংলার সুলতানের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক গিয়াসিয়া মাদরাসার বিবরণ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।