সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন হুমকি দিলেও ইরান কেন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি এবং ২০২৬ সালের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর কেন সেই হিসাব বদলেছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সঞ্জয় আগরওয়ালের মতে, প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করা ইরানের ‘শেষ অস্ত্র’, কারণ পারস্য উপসাগরের বিপুল তেল ও গ্যাস এ পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে যায় এবং ইরানের নিজস্ব বাণিজ্য ও তেল রপ্তানিও এ পথনির্ভর।
বিশ্লেষণে বলা হয়, পূর্ণ অবরোধ হলে ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমবে, খাদ্য ও জরুরি পণ্য আমদানি কঠিন হবে, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই ইরান সাধারণত জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতা, পরিদর্শন, টহল এবং নির্দিষ্ট জাহাজে বিধিনিষেধের মাধ্যমে প্রভাব দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছিল, হরমুজে জাহাজ চলাচল তাদের অনুমতি ও সমন্বয়ে হচ্ছে।
সূত্রটি বলছে, নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এবং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ইরানের তৎপরতায় হরমুজ সরাসরি সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ৩১ আগস্ট লারাক দ্বীপে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে মার্কিন হামলা ও পরবর্তী ইরানি পাল্টা হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ অস্থিতিশীলতায় বিকল্প রপ্তানি পথ বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশসহ এশীয় আমদানিকারকদের জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংঘাত ও জ্বালানি বাণিজ্যের চাপে হরমুজ প্রণালি কৌশলগত সংঘাতের কেন্দ্রে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।