ডা. শেখ সাদীউল ইসলাম লিখেছেন, ১৯ জুলাই ২০২৪ রাত প্রায় ৮টায় কারফিউ চলাকালে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা ফোন ছাড়াই তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যান। খাতা-কলমে আবাসিক সার্জন হলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আহত মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করার দায়িত্ববোধ থেকেই হাসপাতালের উদ্দেশে বের হন। পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে তিনি প্রথমে হেঁটে তাঁর প্রাইভেট চেম্বারের হাসপাতালে যান এবং পরে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে গাড়িতে পঙ্গু হাসপাতালের সামনে পৌঁছান।
হাসপাতালে পৌঁছে ইমার্জেন্সির সামনে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীর ফাইল এবং অপারেশন থিয়েটারে আরও ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী দেখতে পান বলে তিনি জানান। অধিকাংশ রোগী আন্দোলনে আহত ছিলেন; কারও গুলি লেগেছিল, কারও হাড় চূর্ণ হয়েছিল এবং কারও রক্তক্ষরণ চলছিল। সীমিত জনবল ও বিপুল রোগীর চাপের মধ্যে চিকিৎসকেরা সারা রাত অস্ত্রোপচার ও জরুরি চিকিৎসা দেন। কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত পরিষ্কার ও অস্থায়ী স্থিতিশীলতার ব্যবস্থা করা হয়।
সকাল ৭টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর তিনি প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহনের অপেক্ষা করেন। পরে ৮০০ টাকায় একটি সিএনজিতে বেইলি রোডের পথে রওনা দিয়ে চেকপোস্ট ও ব্যারিকেডের কারণে প্রায় সাত কিলোমিটারের পথ ১৪ কিলোমিটার ঘুরে পৌঁছান। তিনি বলেন, সেদিন কোনো বিশেষ সুবিধা বা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাননি; বিবেকের তাড়নাতেই আহত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
কারফিউর রাতে আহতদের চিকিৎসায় পঙ্গু হাসপাতালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন এক অর্থোপেডিক সার্জন
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।