বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা, ব্যয় হ্রাস ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন, অনিয়মে জড়িত এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং তদারকি জোরদার করা হয়। ‘লাব্বাইক’ মোবাইল অ্যাপ চালুর মাধ্যমে নিবন্ধন, ফ্লাইট তথ্য ও জরুরি সহায়তা সহজ হয়। ২০২৫ সালে প্রায় ৮৭ হাজার হাজির হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রশিক্ষিত গাইড, চিকিৎসা সেবা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে হাজিদের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয় এবং সৌদি আরবের হিসাব থেকে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়। বিমান ভাড়া দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা কমানো হয় এবং ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন সরকারি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয় ৪,৬৭,১৬৭ টাকা। সরকারি খরচে কাউকে হজে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের হজ কোটা ৮০ হাজার থেকে ৬০ হাজারে নামানো হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৬ সালের হজ প্রস্তুতি ছিল প্রযুক্তিনির্ভর, সুশৃঙ্খল ও বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল উদাহরণ।
বাংলাদেশের হজ সংস্কার, ব্যয় হ্রাস ও ২০২৬ সালের পূর্ণ কোটা পুনরুদ্ধার
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।