নেপাল ও তিব্বতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসকে বিশেষজ্ঞরা বৃহত্তর জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। বরফ, তুষার ও পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলে যাওয়ায় পাহাড়ি ভূখণ্ডের স্থিতিশীলতা কমছে; ফলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। গত সপ্তাহের এই বিপর্যয়ে নেপালে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূ-ভৌত ও জলবায়ু ঝুঁকিবিষয়ক অধ্যাপক ইমেরিটাস বিল ম্যাকগুয়ার বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আবহাওয়া ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার পাশাপাশি ভূতাত্ত্বিক ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। হিমবাহ সরে গেলে অস্থিতিশীল ভূমি উন্মুক্ত হয় এবং পারমাফ্রস্ট গললে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ে। হিমালয়ে হাজার হাজার হিমবাহ হ্রদ রয়েছে, যার প্রায় ২০০টি নিচের দিকে বসবাসকারী মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
বিশ্লেষণে আলাস্কা, আন্দিজ, গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় আল্পসেও বরফ গলার কারণে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, আগামী বছরগুলোতে হিমালয়ে হিমবাহজনিত বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। উৎসে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বরফ গলনে পাহাড়ি দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।