যুদ্ধ, ধ্বংসস্তূপ ও তীব্র খাদ্যসংকটের মধ্যে গাজার ফিলিস্তিনি কৃষকেরা সংকুচিত ছোট ছোট জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় কৃষক সাকের আবু রাবি ১ দশমিক ৪ হেক্টর জমিতে আবার চাষ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে সেখানে কমলালেবুর বাগান ছিল, যা ইসরাইলি বাহিনী ধ্বংস করার পর পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে সাধারণ সরঞ্জামে জমি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করেন।
এই জমি থেকে বেগুন, টমেটো ও মরিচের লাখ লাখ চারা উৎপাদিত হচ্ছে। কিছু সবজি বিক্রি করা হলেও অধিকাংশ চারা অন্য কৃষক ও তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে; এতে স্থানীয় বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আবু রাবি বলেন, তাঁর ছেলে ইউসুফ ২০২৪ সালের অক্টোবরে মাঠে কাজের সময় ড্রোন হামলায় নিহত হন। তাঁর ভাই বিলালও চলতি বছরের জুলাইয়ে কৃষি সরঞ্জাম আনতে গিয়ে নিহত হন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কৃষক বা বেসামরিকদের লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এফএওর স্যাটেলাইট তথ্যে যুদ্ধপূর্ব কৃষিজমির মাত্র ৪৫০ হেক্টর, প্রায় ৩ শতাংশ, অক্ষত ও তাৎক্ষণিক চাষযোগ্য আছে। ৮০ শতাংশের বেশি গ্রিনহাউস ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানি, সার ও কীটনাশকের সংকট তীব্র। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাবে, প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বা ৬৭ শতাংশ জনসংখ্যা তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে।
ধ্বংস, সংকট ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেও গাজায় কৃষকেরা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।