বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব কার্যত থেমে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত অবসরপ্রাপ্ত আমলা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা ভেঙে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে কমিশনটি নিয়োগ, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানে মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক সংস্কারের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখন প্যাকেটবন্দি অবস্থায় আছে এবং কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব ও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের চরিত্র বদলায়নি। ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানি আগের মতোই চলছে। দেশের আট বিভাগে শতাধিক সেবাগ্রহীতার সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, ভূমি, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ বেড়েছে। সাবেক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া রাজনৈতিক প্রশাসন সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকার বলছে, তারা দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
প্রশাসনিক সংস্কার থমকে, দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্রের পুরনো ধারা অব্যাহত
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।