জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে; গলছে হিমবাহ, কমছে বরফ ও তুষার, বাড়ছে পাথরধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি। বুধবার নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে ২৩ হাজার ৭৩৪ ফুট উঁচু লাংটাং লিরুংয়ের উত্তর পাশে হিমবাহ ও পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে। এতে পানি, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত প্রায় ৬০ মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের কারাকোরামের ব্রড পিকে তুষারধসে ১০ পর্বতারোহী নিহত হন।
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ আরবিন্দ্র খাড়কা বলেন, হিমালয়ের হিমবাহ বছরে গড়ে প্রায় এক মিটার বরফ হারাচ্ছে। নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানান, বরফ ও তুষার সরে গিয়ে খালি পাথর বের হওয়ায় অনেক পথ আর আগের মতো চেনা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন এলাকায় পাথরধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা লাংটাং বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনের কথা বলেছেন।
এই পরিবর্তন নেপালের পর্যটননির্ভর পাহাড়ি অর্থনীতিকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ সালে পর্যটন খাত থেকে দেশের অর্থনীতির ৬ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ঝুঁকি কমাতে পর্বতারোহীরা উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস, জিপিএস, তুষারধস শনাক্তকারী যন্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করছেন। সামনে শরতের ট্রেকিং মৌসুম; গাইড, পোর্টার ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভর করছেন।
হিমবাহ গলা ও অস্থিতিশীল ঢাল হিমালয়জুড়ে নতুন ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।