দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া এলাকায় বাঁশের হাতপাখা তৈরির ঐতিহ্যবাহী পেশা সংকটে পড়েছে। বৈদ্যুতিক ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও প্লাস্টিকের পাখার ব্যবহার বাড়ায় হাতপাখার চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে বাঁশের দাম বৃদ্ধি ও কাঁচামালের সংকট কারিগরদের লাভ কমিয়ে দিয়েছে। বাপ-দাদার আমল থেকে এ কাজ করা রমেন ও তাঁর স্ত্রী কল্পনাসহ এলাকায় পাঁচ-ছয়টি পরিবার এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
রমেনের পরিবারের চারজন সদস্য হাতপাখা তৈরির কাজে অংশ নেন। একটি পাখা বানাতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে এবং দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০টি পাখা তৈরি হয়। প্রতিটির কাঁচামাল খরচ ১০ থেকে ১৫ টাকা, আর পাইকারের কাছে বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। কাঁচামাল বাদ দিয়ে পাখাপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা থাকে; সব মিলিয়ে তাঁদের দৈনিক আয় গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
অগ্রহায়ণ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত মৌসুমে বিক্রি তুলনামূলক ভালো থাকে এবং গরম বা বিদ্যুৎ চলে গেলে চাহিদা বাড়ে। কারিগররা সহজে বাঁশ পাওয়া, আর্থিক সহায়তা ও বাঁশ কাটার সরঞ্জাম দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হাসান বলেন, প্রশাসন সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সহায়তার উদ্যোগ নেবে।
চাহিদা কমা ও ব্যয়বহুল বাঁশে সংকটে বোচাগঞ্জের হাতপাখা কারিগররা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।