নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের রাসুয়া এলাকায় ২৬ আগস্টের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই দুর্যোগে শত শত মানুষ নিহত এবং অনেক মানুষ নিখোঁজ হন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে দ্রুত হিমবাহ ও পারমাফ্রস্ট গলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হচ্ছে, ফলে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ঘটনায় রেকর্ড হওয়া ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পন ভূমিকম্প ছিল না। হিমবাহ ধস এবং বিপুল বরফ-পাথর নিচে নেমে আসার কারণে কম্পনটি সৃষ্টি হয়। বরফ ও শিলার ধ্বংসাবশেষ নদীতে পড়ার পর পানি, বরফ, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত তৈরি হয়। মাত্র ৩০ মিনিটে নদীর পানি প্রায় ৯ মিটার বেড়ে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ডুবিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা দরকার। তবে গত বছরও একই নদী ব্যবস্থায় হিমবাহ-সম্পর্কিত বন্যায় ৯ জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হন। বিশেষজ্ঞরা হিমবাহ ও নদীর পানি পর্যবেক্ষণ, স্যাটেলাইট নজরদারি, দ্রুত সতর্কবার্তা এবং নেপাল, চীন ও নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
উষ্ণতায় পাহাড় দুর্বল হওয়ায় হিমালয়ে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।