ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই বিপ্লবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমন্বয়ক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করেন। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনি ১১তম সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন।
মেজবাহ বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার মধ্যে তিনি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও শটগান ব্যবহার করে। এতে ২০০ থেকে ২৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁর বন্ধু জিসানের চোখে ছররা গুলি লাগার পর চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও তিনি জানান।
সেদিন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট কাজ না করায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে সাক্ষী জানান। তিনি বলেন, ১৯ জুলাই রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত হন। তাঁর জবানবন্দিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫,০০০ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। হাসিনা চলে যাওয়ার পর পলক ও সালমান এফ রহমানের ফোনালাপ থেকে তিনি ইন্টারনেট বন্ধের তথ্য জানতে পারেন বলে জানান।
জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে ব্র্যাক শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।