কুমিল্লায় বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ন্যায্য মজুরির দ্বিগুণ দিলেও শ্রমিক না পাওয়ায় ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। ফলে চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, সদর দক্ষিণ, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, বরুড়া ও লাকসামসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, আগে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৭০০–৮০০ টাকা, এখন দিতে হচ্ছে দুই মণ ধান পর্যন্ত। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক গ্রামীণ শ্রমিক শহরমুখী হয়ে ইটভাটা, নির্মাণকাজ, গার্মেন্ট বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন। একসঙ্গে ধান পাকায় হঠাৎ শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের অতিবৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ হেক্টর মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। এতে ৮০–৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনছে, তবে প্রান্তিক কৃষকরা জটিল নিয়মের কারণে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষিবিদরা সতর্ক করেছেন, ন্যায্যমূল্য ও যান্ত্রিক সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষ থেকে সরে যেতে পারেন।
কুমিল্লায় শ্রমিক সংকটে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।