২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের রাতে রাস্তায় ট্যাংক, যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ও সংসদ ভবনে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আহ্বানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ওই রাতে ২৫৩ জন নিহত হন। এই ঘটনাই পরবর্তী এক দশকে তুরস্কের রাজনীতি, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
অভ্যুত্থানের পর জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হাজার হাজার সেনা, বিচারক, পুলিশ, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই অভিযান ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের গণভোটে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু হয়, যা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পর সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। উত্তর সিরিয়ায় সামরিক অভিযান, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এই পরিবর্তনের প্রতিফলন।
২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণে তুরস্কের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বদলে গেছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।