চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, অ্যান্টার্কটিকার গলন্ত বরফ থেকে বিষাক্ত ধাতু পারদ ক্রমাগত সমুদ্রে মিশছে। পরিবেশবিদ চেংঝেন ঝোর নেতৃত্বে করা এ গবেষণার ফল ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। দ্রুত গলতে থাকা অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের পলির নমুনা বিশ্লেষণে গবেষকেরা উদ্বেগজনক এই প্রবণতা শনাক্ত করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অত্যন্ত উদ্বেগজনক রাসায়নিকের প্রথম ১০টির মধ্যে পারদ রয়েছে এবং অল্প মাত্রাতেও এটি বিষাক্ত। শিল্পে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও খননকাজে পরিবেশে পারদের পরিমাণ বেড়েছে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি। অ্যান্টার্কটিকার বরফ দীর্ঘদিন পরিবেশ থেকে পারদ শুষে ধরে রাখলেও, গ্রিনহাউস গ্যাসজনিত উষ্ণতায় সেই বরফ গলছে। শিল্পবিপ্লবের পর উপদ্বীপ এলাকায় পারদ সঞ্চয়ের হার ১৬০ শতাংশ বেড়েছিল।
গবেষণায় বরফ গলে স্থলভাগে পারদ নির্গমন ৫৫০ শতাংশ এবং বায়ুমণ্ডল-সমুদ্র পারদ বিনিময় ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। উপদ্বীপ থেকে স্রোতের মাধ্যমে খোলা সমুদ্রে পারদ নির্গমন ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। পুরনো একটি গবেষণায় বরফের ব্যাকটেরিয়ার পারদকে মিথাইল মার্কারিতে রূপান্তরের সক্ষমতার কথা উঠে আসে। দক্ষিণ মহাসাগরের প্রাণীদের দেহে পারদের মাত্রাও বাড়ছে বলে গবেষকেরা দেখেছেন।
অ্যান্টার্কটিকার গলন্ত বরফ থেকে সমুদ্রে পারদ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।