বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ছয় দশকের পুরোনো স্বপ্নপূরণের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম ধাপ অনুমোদিত হয়েছে। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে এবং সম্পূর্ণ অর্থায়ন আসবে সরকারি তহবিল থেকে। প্রকল্পটির লক্ষ্য শুষ্ক মৌসুমে পানির সংরক্ষণ ও মরুকরণ প্রতিরোধ।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ব্যারাজে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা পাঁচটি নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করবে এবং প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করবে। এতে ধান ও মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, প্রকল্পটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির সংকট, লবণাক্ততা ও পলি জমার সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং টেকসই স্বাদুপানির সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
শুষ্ক মৌসুমে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ অনুমোদন
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।