নীলফামারীর ডালিয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের জন্য নির্মিত তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প এখন কার্যত পানিশূন্য। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্যানেল, স্লুইসগেট ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় প্রকল্পটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বুকজুড়ে চর জেগে উঠেছে এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫০০ কিউসেকের নিচে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি প্রত্যাহারের কারণেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদী মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৭৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যানেল নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ১২টি উপজেলায় বিস্তৃত। সম্প্রসারণ কাজের ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হলেও ক্যানেলগুলোতে এখনো পানি পৌঁছেনি। কৃষকরা জানান, নদীর পানি না পেয়ে শ্যালো মেশিন ও ডিজেল পাম্পে দ্বিগুণ খরচে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে, ফলে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল অবকাঠামো নয়, বরং ন্যায্য পানিবণ্টন ও বর্ষার পানি সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্পটি টেকসই হবে না।
তিস্তা সেচ প্রকল্পে পানিশূন্যতা, উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের ব্যয় বেড়েছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।