চট্টগ্রামে চলতি বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ারের মতে, শুধু বেশি বৃষ্টিকে দায়ী না করে অব্যবস্থাপনা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন এবং নির্বিচারে পাহাড় কাটাকে এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখতে হবে।
লেখায় বলা হয়, ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মহানগরীর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অনেক স্থানে তা ৩০ মিনিট থেকে প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং পানির গভীরতা ০.৫০ থেকে ১.৬০ মিটার পর্যন্ত হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নগরীর জলাবদ্ধতার ৬৩ শতাংশ কারণ মনুষ্যসৃষ্ট; এর মধ্যে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, খাল-নালা পরিষ্কারের অভাব, জলাশয় ভরাট, বর্জ্য, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন রয়েছে।
সরকার চারটি প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সিডিএর প্রকল্প ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ শেষ হওয়ার পরও এর সুফল কবে মিলবে তা অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাহাড়ধস কমাতে বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসতি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস ঠেকাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতি সুরক্ষার আহ্বান
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।