চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করে অনলাইন প্রতারণা চালানোর অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে ঘিরে তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগ লাওস, ভিয়েতনাম, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। লাওস, ভিয়েতনাম, নেপাল ও চীনে স্ক্যামিংবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় তারা বাংলাদেশকে কার্যক্রমের নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের। তবে বাংলাদেশকে এই চক্রের ‘হেডকোয়ার্টার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তাধীন।
এক সপ্তাহ আগে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে ১,৯৩৮টি আইফোনসহ গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিকের সঙ্গে খুলশীতে আটক ৬৩ জনের সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র প্রাথমিক সংযোগের কথা বললেও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেছেন, বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের বাংলাদেশে আসার পথ, ভিসা, আগের ভাড়া বাসার ঠিকানা, স্থানীয় সহযোগী এবং বিদেশি স্ক্যামিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ অনুসন্ধান করছে।
খুলশীর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ ১৯১টি ব্যবহৃত ডিভাইস জব্দ করেছে। আরও জব্দ হয়েছে একটি ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, প্রিন্টার, পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড। ফরেনসিক পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারকারী, ওয়েবসাইট, অ্যাকাউন্ট, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য অর্থ লেনদেনের তথ্য দেখা হবে। মামলায় সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অননুমোদিত ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগ আনা হয়েছে; পুলিশ বলছে, দেশীয় সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং কয়েকজন পলাতক।
চট্টগ্রামের ফ্ল্যাটে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশিকে ঘিরে তদন্তে পুলিশ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।