উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের দক্ষিণে একটি বিশাল অঞ্চল অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোল্ড ব্লব’ বা ‘ওয়ার্মিং হোল’ নামে চিহ্নিত করেছেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯০০ সাল থেকে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন, এটি আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (অ্যামোক) নামের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রস্রোতব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত, যা পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জার্মানির পটসডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান রাহমস্টর্ফের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় স্যাটেলাইট তথ্য, সমুদ্রযন্ত্রের পরিমাপ ও জলবায়ু মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শীতলীকরণ কেবল সমুদ্রের উপরিভাগেই নয়, গভীর স্তরেও ঘটছে। অন্যান্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, গত এক হাজার বছরে অ্যামোক এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মানুষের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার ফলে স্রোতের তাপ ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, অ্যামোক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, ইউরোপে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেবে এবং আফ্রিকায় দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে।
উত্তর আটলান্টিকের শীতল পিণ্ড দুর্বল অ্যামোকের ইঙ্গিত, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিপদের আশঙ্কা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।