বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-সুবিধা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগের পরও জুন শেষে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে।
ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা; জুন শেষে তা ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেড়ে ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ গ্রুপের কাছে আটকে আছে ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ। রূপালীর খেলাপি ঋণ ১৫৯ কোটি টাকা বেড়েছে, আর সোনালী ও বেসিকের কিছুটা কমেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণগ্রহীতাদের অনীহা, ধীর আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঋণ আদায়ে ধীরগতিকে দায়ী করেছেন। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, তাদের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে আটকে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ঋণ আদায় জোরদারে সরকারের বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ ছয় মাসে দৃশ্যমান হয়নি।
ছয় মাসে পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।