আফগানিস্তানে অপুষ্টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩৭ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত। ২০২৬ সালে শিশুদের অপুষ্টি বৃদ্ধির প্রবণতা অন্য বছরের তুলনায় কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর পুষ্টি সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশুদের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের ঘাটতি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, তারা প্রয়োজনীয় প্রধান খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র দুটি থেকে খাবার পাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, খাদ্য ও পানির সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়াকে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৩ সাল থেকে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ৬০ লাখের বেশি মানুষ আফগানিস্তানে ফিরেছে, যা দুর্বল স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। খরা ও বন্যায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ২০২৬ সালের পুষ্টি কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ কোটি ডলার প্রয়োজন হলেও মাত্র ২২ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে, ফলে কিছু পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ বা সীমিত কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হয়েছে।
আফগানিস্তানে গুরুতর অপুষ্টিতে প্রায় ১০ লাখ শিশুর জীবনহানির ঝুঁকি: ইউনিসেফ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।