২০২৬ সালের ১৭ মে প্রকাশিত ড. মাহরুফ চৌধুরীর প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি এক মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত অস্ত্র। তিনি ‘উপ্ত-সুপ্ত-গুপ্ত-লুপ্ত’ ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ ধাপে ধাপে মানুষের চেতনা, আবেগ ও বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। এই কাঠামোতে ভাষা ও প্রতীক ব্যবহৃত হয় প্রতিপক্ষকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং জনমত নিয়ন্ত্রণের জন্য।
মিশেল ফুকো, আন্তোনিও গ্রামশি ও নোয়াম চমস্কির তত্ত্বের আলোকে প্রবন্ধটি দেখায়, রাজনৈতিক বয়ান প্রায়ই তথ্যের জায়গায় আবেগ, ভয় ও নৈতিক বিচারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক লেবেলিং, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও প্রতীকী নিশ্চিহ্নকরণের উদাহরণ তুলে ধরে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে এসব কৌশল বিরোধী কণ্ঠকে প্রান্তিক করে তোলে।
প্রবন্ধে উপসংহারে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সমালোচনামূলক নাগরিক চেতনা। নাগরিকরা যদি প্রচারণা বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক ভাষা বুঝতে না শেখে, তবে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। যুক্তি, নৈতিকতা ও ইতিহাসভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলাই এই কূটকৌশল ভাঙার একমাত্র উপায়।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভাষা কীভাবে জনচেতনা ও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে তা বিশ্লেষণ
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।