ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে দিয়েছে, যা একাডেমিক মহল ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রো-ইসরাইলি সংগঠন ইউকে লইয়ার্স ফর ইসরায়েল (ইউকেএলএফআই) কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়। সংগঠনটি দাবি করে, খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০–১৫০০ অব্দের প্রদর্শনীতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে উল্লেখ করা এবং হিকসোস জনগোষ্ঠীকে ‘ফিলিস্তিনীয় বংশোদ্ভূত’ বলা ইসরাইল ও জুদেয়া রাজ্যের ইতিহাসকে আড়াল করে। পরবর্তীতে এসব লেবেল পরিবর্তন করে ‘কানান’ ও ‘কানানীয় বংশোদ্ভূত’ লেখা হয়েছে।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের এক মুখপাত্র জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি ঐ সময়ের জন্য যথাযথ ভৌগোলিক পরিভাষা নয় এবং আধুনিক মানচিত্রে জাতিসংঘের পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। তবে মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষাবিদরা বলেন, ‘প্রাচীন ফিলিস্তিন’ ঐতিহাসিকভাবে সঠিক শব্দ। ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারচেলা ওয়ার্ড বলেন, এই শব্দ অস্বীকার করা ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এনার্জি এমবার্গো ফর প্যালেস্টাইন জাদুঘরটির বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ তুলে বলেছে, ফিলিস্তিনি নিদর্শন সংগ্রহের পর এখন ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা চলছে এবং এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও এর মানুষকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রাচীন প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ বাদ দেওয়ায় ব্রিটিশ মিউজিয়ামকে ঘিরে বিতর্ক
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।