ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির পর রাজ্যজুড়ে গবাদিপশুর বাজারে তীব্র মন্দা দেখা দিয়েছে। ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ফলে হাজারো ব্যবসায়ী, খামারি, পরিবহন শ্রমিক ও হাটের দিনমজুর বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে হিন্দু পশুপালক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মুসলিম ক্রেতারা প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে হাটে আসতে ভয় পাচ্ছেন, ফলে বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, হিন্দু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ ঋণ নিয়ে পশু কিনেছেন, কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় দেনা শোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মুসলিম সম্প্রদায়কে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিকল্প হিসেবে ছাগল বা ভেড়া কোরবানির পরামর্শ দিয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু বিক্রেতা ও মুসলিম ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন দাবি করেছে, পদক্ষেপটি কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, তবে এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ঈদে গরু কোরবানির নিষেধাজ্ঞায় হিন্দু ব্যবসায়ীদের আর্থিক বিপর্যয়
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।