বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাওর অঞ্চলে সরিষা চাষ অন্তর্ভুক্ত করলে কৃষকদের বোরো ধানের ওপর নির্ভরতা ও আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব। হাওরের কৃষকরা বছরে একমাত্র বোরো ধান চাষ করেন, যা প্রায়ই আগাম বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং বোরো রোপণের আগের সময়টিতে স্বল্পমেয়াদী সরিষা চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত একটি ফসল ঘরে তুলতে পারেন, ফলে পতিত জমির ব্যবহার বাড়ে ও আয় স্থিতিশীল হয়।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পরিচালিত এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মমিনুল ইসলাম এবং সহযোগী ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ আনোয়ার। ২০২৩ সাল থেকে সিটি ব্যাংকের অর্থায়নে ও বাউরেসের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি চলছে। প্রথম বছরে বিনা সরিষা-৯ জাত নভেম্বরের ২০ তারিখে বপনে সর্বোচ্চ ফলন দেয় এবং পরবর্তী বোরো ধানও ভালো ফলন দেয়। গবেষকরা জানান, রবি মৌসুমে প্রায় ৪০ শতাংশ জমি পতিত থাকে, যা সরিষা চাষের মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।
তবে প্রতিবছর পানির নেমে যাওয়ার সময় ভিন্ন হওয়া ও জমির উপযোগিতা সীমিত থাকায় চাষে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।
বাকৃবি গবেষণায় হাওরে সরিষা চাষে বোরো ঝুঁকি কমিয়ে আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।