ইউরোপের প্রধান দেশগুলোতে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন হারাচ্ছে; মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ভোটারদের উগ্র ডান ও বামপন্থি দলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা খাতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়াকে এ সংকটের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণ ও বেতনভোগী শ্রমজীবীদের মধ্যে উদার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার ধারণা জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা মধ্য-বাম ও মধ্য-ডান দলকে ক্রমেই একই ধরনের রাজনীতির ধারক মনে করছেন। শিক্ষিত অভিজাত নেতৃত্ব শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন—এমন ধারণাও বাড়ছে। বাজেট ঘাটতি, ঋণের ব্যয় ও সুদের হার বৃদ্ধিতে সরকারগুলোর বড় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়েছে। ফ্রান্সে মেরিন লো পেনের ন্যাশনাল র্যালি ও জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর ফ্রান্স আনবোড জনপ্রিয়তা পাচ্ছে; জার্মানিতে বাড়ছে এএফডি ও ডি লিংকের সমর্থন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ফ্রান্সে ৬৯, স্পেনে ৬৮, ইতালিতে ৬২ এবং পোল্যান্ডে ৪৭ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। জার্মানিতে এএফডির সমর্থন প্রায় ২৮ শতাংশ, যেখানে সিডিইউ-সিএসইউর ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, সামনে নির্বাচনগুলো বিভক্ত পার্লামেন্ট, উগ্র ছোট দলের প্রভাব এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যক্রমে জটিলতা বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপে ইউরোপে মধ্যপন্থিদের সমর্থন কমছে, বাড়ছে উগ্র দলের প্রভাব
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।