জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সময়ের প্রায় এক মাস আগেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল, ফলে বোরো মৌসুমের প্রস্তুতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ছায়ার, দেখার, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমারসহ অধিকাংশ হাওরের বীজতলা শুকিয়ে ফেটে গেছে। যে মাঠে এ সময় চারা গজানোর কথা, সেখানে এখন গবাদিপশু চরছে।
কৃষকদের মতে, সাধারণত কার্তিকের শেষ পর্যন্ত হাওরে পানি থাকে এবং নভেম্বরের শেষে বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এবার অক্টোবরের শেষেই পানি নেমে গেছে। শুকনো জমি নরম করতে মেশিনে সেচ দিয়ে প্রতি কেয়ারে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে। কৃষক মাহবুবুর রহমান আশঙ্কা করেছেন, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারা দুর্বল হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়বে এবং ফলন কমতে পারে।
কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য, সমন্বিত পরিকল্পনা, সময়মতো পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন এবং বীজতলার জন্য ডিপ টিউবওয়েলের দাবি তুলেছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, খরা ও অনাবৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে কৃষকদের আগে সতর্ক করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টরে বোরো আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টরে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের হাওর আগেভাগে শুকিয়ে বোরো বীজতলা ও কৃষকের খরচ বাড়িয়েছে
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।